ফেসবুককে জবাবদিহিতার অধীনে আনা উচিত : পলক
গুজব, অপতথ্য ও বুলিং ছড়িয়ে পড়া রোধে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকসহ ডিজিটাল মিডিয়াগুলোকে জবাবদিহিতার অধীনে আনা উচিত বলে মনে করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক। বুধবার সকালে সাইবার-নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, কৌশল এবং ভবিষ্যত দিক-নির্দেশনা নিয়ে "সাইবার-সিকিউরিটি সিম্পোজিয়াম: বাংলাদেশ পাথ ফরওয়ার্ড" বিষয়ক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইইউ প্রতিনিধি টিম এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই সাইবার সিম্পোজিয়াকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী পলক : সাইবার জগতে আমরা সবাই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইনে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করি, কিন্তু জানি না তারা কীভাবে এগুলো ব্যবহার করে। রহিঙ্গা ইস্যুতে ভুয়া তথ্য দিয়ে ফেসবুকে দিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ডিপফেক, সাইবার বুলিং নিয়ে ফেসবুককে জবাবদিহিতার অধীনে আনা উচিত।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠোপেষকতায় সাইবার দুবৃত্তপনা চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট যারা ব্যবহার করছেন তাদের সবাই হ্যাকড। এ কারণেই আমাদের সাইবার স্বাক্ষরতা বিশেষ করে এআই ব্যবহার বিষয়েও জানতে হবে। সচেতনতার পর সাইবার সুরক্ষায় নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাব করতে হবে। একইসঙ্গে একটি আইন ও নীতিমালা করতে হবে। ইতিমধ্যেই আমরা নীতিমালার খসড়া করেছি। ডেটার সুরক্ষায় আমরা তিন-চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে তা প্রসেস করছি। সবশেষে বিভিন্ন দেশ ও দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা দেশের সাইবারে আকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নিজেও সাইবার দুবৃত্তপনায় ‘ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিং’ এর শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি চার্লস হোয়াইট লি বলেছেন, সাইবার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু দেখে যাচাই-বাছাই না করে শিক্ষার্থীদের কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ফলে সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দায়ী। আর এজন্য তাদেরকে আর্থিক সহ আইনি জবাবদিহিতার অধীনে আনা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমরা মানুষের মুক্ত বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমরা সকলের বক্তব্য, মন্তব্য ও আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই বিবেচনা করবেন। প্রতিমন্ত্রী বা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন বাবা এবং সচেতন মানুষ হিসেবে সকলের প্রতি অনুরোধ করবো, আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন ধৈর্যশীল ও সহনশীল হয়। সবার আগে আমাদের নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান এই অবস্থায় তৃতীয় কোন পক্ষ যেন শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করতে ও সুযোগ নিতে না পারে। একইসাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন ভুল তথ্য, গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা যেন অসহনশীল হয়ে না যায়।







